এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো
বর্তমান সময়ে ইনকামের জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং।আপনি যদি
সঠিক নিয়ম মেনে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন,তাহলে আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার
গড়ার জন্য এর বিকল্প নেই।এফিলিয়েট মার্কেটিং কি,এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে
শুরু করবো,এর সুবিধা-অসুবিধা সবকিছু নিয়ে আজকের এই ব্লগ।তাহলে চলুন এর
বিস্তারিত জানা যাক।
পোস্ট সূচিপত্র:এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো
এফিলিয়েট মার্কেটিং কি
এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের মার্কেটিং এর একটি জনপ্রিয়
মাধ্যম।এফিলিয়েট এর বাংলা অধিভুক্ত।কোন কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে কমিশন নেওয়ার
প্রক্রিয়াকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। এক কথায় বলতে গেলে কোন
কোম্পানির এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করার যে মাধ্যম
এটা কেই এফিলিয়েট বলে।
মনে করেন আপনার একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট আছে।আপনি আপনার পণ্য বিক্রি করার জন্য
টাকা খরচ করে অ্যাড চালান আপনার ওয়েবসাইটে সেক্ষেত্রে আপনার খরচ বেশি চলে
যায়।আপনি হয়তো চিন্তা করছেন মার্কেটিং খরচ কিভাবে কমানো যায় এবং সেল বাড়ানো
যায়।এমত অবস্থায় অ্যাপ্লায়েড মার্কেটার হতে পারে আপনার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
শুধুমাত্র তাদেরকে কিছু টাকা কমিশন দিতে হবে।তার বিনিময়ে তারা আপনার পণ্য
প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে বিক্রি করে দেবে।এভাবে আপনার মার্কেটিং খরচ অনেকাংশেই
কমিয়ে নিয়ে আসতে পারেন।বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো যেমন,alibaba express,
amazon এই কোম্পানিগুলো এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে বড় অংকের মুনাফা
অর্জন করছে।
এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো
তাহলে চলেন জেনে নেওয়া যাক এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো
।এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন খুব সহজে।দিন দিন এর
চাহিদা বহু গুণে বেড়ে চলেছে। আপনি যদি অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চান
তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং আপনার জন্য হতে পারে বেস্ট অপশন।খুব কম সময়ে
এফিলিয়েট থেকে সফলতা পাওয়ার টেকনিক নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।
ওয়েবসাইট
এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য সর্বপ্রথম যে জিনিসটার প্রয়োজন পরে তা হল
মাধ্যম অর্থাৎ আপনাকে যে এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য প্রোডাক্ট দেয়া হবে সে
প্রোডাক্ট প্রমোশন করার জন্য আপনার প্লাটফর্মের প্রয়োজন পড়বে।এফিলিয়েট
মার্কেটিং করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো ব্লগ।ওয়েবসাইট।
প্রডাক্ট এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে
ব্লগ ওয়েবসাইটকে।এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে প্রোডাক্ট সেল করতে চাইলে
আপনার একটি ব্লগ ওয়েবসাইট থাকা অবশ্যই প্রয়োজন।সেখানে আপনি আপনার পছন্দ
অনুযায়ী একটি নিয়ে সিলেক্ট করবেন সেটার উপর ভিত্তি করে আপনি ওয়েবসাইট তৈরি
করবেন এবং সেখানে আপনি আপনার প্রোডাক্ট প্রমোট করার জন্য কন্টেন্ট দিবেন।
আপনি আপনার প্রোডাক্ট এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ব্লগ ওয়েব সাইটে যে কনটেন্ট
গুলো দিবেন সেগুলো যখন একজন ভিজিটর এসে দেখবে তখন আপনি অ্যাপ্লি মার্কেটিং করার
জন্য আবেদন করতে পারেন।
ইউটিউব চ্যানেল
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় একটি ভিডিও প্লাটফর্ম হল ইউটিউব
চ্যানেল।যেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও মানুষ আপলোড করে থাকে এবং সে
আপলোডকৃত ভিডিও গুলো প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ দেখছে।সাধারণত মানুষ কোন যখন কোন
কিছু কেনার চিন্তাভাবনা করে তখন তারা সেটা সামনাসামনি দেখে দেখে যাচাই-বাছাই করে
নিতে বেশি পছন্দ করে।
কোন পণ্য সম্পর্কে যখন বিস্তারিত ভাবে বলা হয় এফিলিয়েট মার্কেটিং
সেক্টরের মাধ্যমে তার ক্রেতা দের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করে।কোন প্রডাক্ট এফিলেট
মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে লেখার থেকে ভিডিও অনেক বেশি কার্যকরী কারণ
ভিডিও দেখার মাধ্যমে ক্রেতা পণ্যের মান দেখে বাছাই করতে পারেন।এখন আপনি যদি
প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে সেল করতে চান তাহলে আপনার জন্য বেস্ট চয়েস
হতে পারে ইউটিউব চ্যানেল।
এক্ষেত্রে আপনি আপনার প্রোডাক্ট এর ভিডিও করে প্রোডাক সম্পর্কে সুন্দর বর্ণনা
দিয়ে ইউটিউবে আপলোড করবেন এবং ডেসক্রিপশন বক্সে আপনার যে প্রোডাক্ট এর লিংক
দেয়া থাকবে সেখান থেকে যদি কাস্টমার প্রোডাক্ট কিনেতে আপনি একটা নির্দিষ্ট
পরিমাণ কমিশন পাবেন।
ইমেইল মার্কেটিং
এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আরেকটি অন্যতম মাধ্যম হলো ইমেইল মার্কেটিং।আপনি
খুব সহজেই ফ্রি মেইল সার্ভিসের মাধ্যমেও অ্যাফিলেট মার্কেটিং করতে পারেন।তবে
ইমেইলের মাধ্যমে এফিলেট মার্কেটিং করার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে
এফিলিয়েট মার্কেটিং এর পেতে হবে।আপনি যাদের কাছে প্রোডাক্ট সেল করবেন তাদের
ইমেইল সংগ্রহ করে সেখানে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর লিঙ্ক টেস্ট পেস্ট
করে আপনার সংগ্রহকৃত ইমেইল এড্রেস এ পাঠিয়ে দিবেন। আপনার আইডিয়া যত
বেশি ভালো হবে আপনার সেল বেশি হবে।
এফিলেট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব? কেন আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন
আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে?আপনি এফিলেট মার্কেটিং অনেক কারণে করতে পারেন তবে
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার অন্যতম কারণ হলো অনলাইনের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার
সফল একটি মাধ্যম।একজন মার্কেটার হিসেবে আপনার কেন এফিলিয়েট মার্কেটিং করা দরকার
তার নিচে দেওয়া হলঃ
অভিজ্ঞতা অর্জন
আপনি একজন মার্কেটার হিসাবে যদি মনে করেন ভবিষ্যতে বিজনেস করবেন। ব্যবসায়ী
বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যবসা শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ
নয়।নতুন শুরু করা কোন বিজনেস যদি বন্ধ হয়ে যাই, সেখানে করা ইনভেস্ট বা
অর্থ দুটোই নষ্ট হবে।আপনার যদি ব্যবসায়ী আইডিয়া না থাকে ব্যবসা করতে
গিয়ে বিভিন্ন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হবেন।সেগুলার সমাধান করার জ্ঞান
অর্জন জরুরী।
এফিলিয়েট মার্কেটিং করে একজন মার্কেটার বিজনেস সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা লাভ
করতে পারবে।এতে করে তার নতুন ব্যবসা শুরু করতে সহজ হবে।
ক্যারিয়ার তৈরি
এফিলিয়েট মার্কেটিং শুধুমাত্র অনলাইন থেকে টাকা ইনকামের রাস্তা নয়,বরং এর মধ্যে
রয়েছে সুন্দর এবং সুরক্ষিত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ। এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে
হলে অনেক বিষয় আপনাকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।যেমন, এসই্ও,ওয়েবসাইট
মেইন্টেন,কনটেন্ট রাইটিং ইত্যাদি বিষয় জ্ঞান থাকা জরুরী।
এ সকল দক্ষতা দিয়ে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং ছাড়াও ফিনান্সিং ও রিমোট জব করতে
পারেন।যা আপনার ক্যারিয়ারকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে।
ইনকাম সোর্স
জীবনে বড় হয়ে টাকা ইনকাম করার প্রতিটা মানুষের স্বপ্ন।আর এই স্বপ্ন পূরণ করার
জন্য মানুষ লিখা করার পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন চাকরি করে থাকে। দ্রুত
সময় বেশি টাকা ইনকাম করার জন্য সবচেয়ে সঠিক মাধ্যম হচ্ছে ব্যবসা।
টাকারঘাটতি থাকার কারণে আমরা অনেকেইব্যবসা করতে পারি না।এফিলেট মার্কেটিং এসবের
উপরে। কোন রকম ইনভেস্টমেন্ট বা অর্থ ছাড়াই আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন।
কোনরকম লস লাভ বা কোন রিস্ক ছাড়া।
শেষ কথা,এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনার যেমন অভিজ্ঞতা বাড়বে দিন দিন আপনার
ইনকামও বাড়বে।
এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সেরা কয়েকটি সাইট
- ডায়না হোস্টঃ
ডায়না হোস্ট হচ্ছে বাংলাদেশে একটি হোস্টিং প্রোভাইডার কোম্পানি।এখান
থেকে আপনি তাদের কোম্পানি প্রমোট করে বা আপনার প্রমোট লিংক থেকে কেউ হোস্টিং
সেবা ক্রয় করলে আপনি সেখান থেকে কমিশন পাবেন এ কোম্পানির একটি সুবিধা হচ্ছে
আপনার সাইটের দেওয়ার জন্য রেডিকৃত অ্যাড আপনি পেয়ে যাবেন।
- দারাজঃ
বাংলাদেশে অনলাইন প্লাটফর্মে দারাজ সবার পরিচিত নাম।দারাজ এর এফিলিয়েট প্রোগ্রাম
চালু আছে। আপনি চাইলে দারাজ থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারেন।দারাজ
কেযদিও আমি নিজে রেফার করি না।তবে আপনি চাইলে দারাজের এফিলিয়েট প্রোগ্রামের শর্ত
গুলো মেনে মার্কেটিং করতে পারেন।
- বিডি শপঃ
বিডি শপ যদিও অনলাইন রিলেটেড সার্ভিস না। তাদের প্রোগ্রামকে একটু লেট প্রোগ্রাম
না বলে রিসেলার প্রোগ্রাম বলা যেতে পারে।মূলত আপনার কাজ হবে তাদের থেকে কম টাকায়
পণ্য কিনে বেশি টাকায় সেল করা।মূলত তারাই আপনার নাম দিয়ে কাস্টমারের কাছে
প্রোডাক্ট ডেলিভারি করবে তাদের কুরিয়ারের মাধ্যমেই।আপনার কাজ হবে শুধুমাত্র
অর্ডার কনফার্ম করা।
তাদের কাছে নিত্যনতুন সব প্রয়োজনীয় গেজেট পেয়ে যাবেন। যা সেল করে আপনি কমিশনের
মাধ্যমে ইনকাম করতে পারেন।
- সহজ ডট কমঃ
এখান থেকে বাস ও ট্রেনের টিকিট বুক করা যায়।আপনি চাইলে তাদের হয়ে টিকিট বিক্রি
করে কমিশন নিতে পারেন।সত্যি কথা বলতে আমার তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই। আপনি চাইলে
তাদের তাদের সাথে যোগাযোগ করে টিকিট বুকিং ও বিক্রয় করে টাকা ইনকাম করতে
পারেন খুব সহজে।
এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা
-
প্যাসিভ ইনকামঃ প্যাসিভ ইনকাম করার জনপ্রিয় মাধ্যম হল এফিলিয়েট
মার্কেটিং।এখান থেকে আপনি ইউটিউব চ্যানেল,ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এর
মাধ্যমে পণ্য প্রচার-প্রচারণা করে পরোক্ষ আয় তৈরি হয়।
- পণ্য তৈরীর জমি নেইঃ যেহেতু পরের পণ্য বিক্রি সেও তো পণ্য নষ্ট হয়ে
যাওয়ার কোন ঝুঁকি থাকে না। অতএব মার্কেটিং করার জন্য আপনার কোন পণ্যের
প্রয়োজন পড়বে না।পরের পণ্য বিক্রি করবেন যেখান থেকে কমিশন নিব।এতে করে
আপনার পণ্য বিক্রি না হলেও কোন রকম ঝুঁকি থাকবে না।
- স্বাধীনতাঃ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন।আপনার যখন মন চায় কাজ করবেন এখানে কারো হুকুম মেনে আপনাকে কাজ করতে হবে না।এটা হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সবথেকে ভালো দিক যেখানে আপনি নিজ স্বাধীন কাজ করব।
এফিলিয়েট মার্কেটিং এর অসুবিধা
- প্রতিযোগিতাঃ এই সেক্টরে অনেক বেশি পরিমাণ প্রতিযোগিতা বিরাজ করে।যে কারণে খুবই কম সংখ্যক মানুষ সেক্টরে সফলতা অর্জন করতে পারে।
- কমিশন ভিত্তিক ইনকামঃ কোন কোন বিক্রি করার মাধ্যমে কমিশন অর্জনের জন্য একজন কাস্টমারকে বিক্রি পর্যন্ত নিয়ে যাইতে কাট-খড় পড়তে হয়।
- সময় সাপেক্ষঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।এখানে অনেক পরিশ্রম এবং সময় দিতে হয় নয়তো সফলতা পাওয়া যায় না।
- অনিশ্চয়তাঃ এখানে যেহেতু পণ্য বিক্রির উপর কমিশন পাওয়া ।সেহেতু পণ্য বিক্রি না হলে কোন প্রকার অর্থ উপার্জন হয় না। তাই এখানে ইনকামের অনিশ্চয়তা রয়েছে।
শেষ কথা
প্যাসিভ ইনকাম হিসেবে আপনি এই এফিলিয়েট প্রোগ্রামগুলো ট্রাই করতে পারেন। সঠিক
নিয়ম মেনে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারলে খুব সহজেই সফলতা অর্জন করা
যায়।কিন্তু তার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে পরিপূর্ণভাবে একটি লাইট মার্কেটিং কি
কিভাবে করতে হয় এগুলো বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকতে হ।নয়তো সময় এবং ক্যারিয়ার
দুইটাই নষ্ট হতে পারে।
আমার পার্সোনাল মতামত যদি বলি অবশ্যই শিখতে চাইলে ভালো হবে শিখবেন নয়তো এর
থেকে দূরে থাকাই ভালো হবে।



আর্টিকেল সুত্রার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url