গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স কত মাস থেকে খেতে হয়

 

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স কত মাস থেকে খেতে হয় এ সম্পর্কে যদি আপনি জানতে চান তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য।এই আর্টিকেলে আমরা আপনাদের গর্ভাভাবস্থায় মাদার হারলিক্স কত মাস থেকে খেতে হয় বেশ কিছু উপকারিতা অপকারিতা খাওয়ার নিয়ম এগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

গর্ভাবস্থায়-মাদার-হুরলিক্স-কত-মাস -থেকে-খেতে-হয়

গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের সকল পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে এবং গর্ভে থাকা সন্তানের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে সুস্থ রাখতে মাদার হরলিক্স অনেক উপকারী। এই সময় চিকিৎসকেরা  গর্ভবতী মায়েদের মাদার হরলিক্স খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃগর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স কত মাস থেকে খেতে হয়

মাদার হরলিক্স কি

মাদার হরলিক্স এমন এক ধরনের খাবার যা গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি সমৃদ্ধ উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। গর্ভাবস্থায় একজন গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার অন্যান্য মায়েদের তুলনায় বেশি পরিমাণ প্রয়োজন হয়। কারণ গর্ভবতী মায়ের পেটে বেড়ে ওঠা গর্ভস্থ শিশুটি গর্ভবতী মায়ের থেকে খাদ্য গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। এজন্য একজন গর্ভবতী মায়ের প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন হয়।

মাদার হরলিক্স যে সব পুষ্টি উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তা মূলত গর্ভবতী মায়ের কথা বিবেচনা করে যেন মাদার হরলিক্স খেলে গর্ভবতী মায়ের শরীরের সকল পুষ্টি উপাদান এর চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি উপাদান গর্ভবতী মায়ের শরীরে গেলে  গর্ভে থাকা সন্তানটিও পর্যাপ্ত পরিমাণে বেড়ে উঠতে পারবে । মাদার হরলিক্সে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন,খনিজ,প্রোটিন,বি এইচ,এর মত পুষ্টি উপাদান থাকে যা একজন গর্ভবতী মায়ের সকল পুষ্টি উপাদান পূরণে প্রচুর পরিমাণে সহায়তা করে থাকে। এজন্য চিকিৎসকরা গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

মাদার হরলিক্স এর কাজ কি

গর্ভবতী অবস্থায় একজন মেয়ে মাদার হরলিক্স খেতে পারে এতে তার নির্দিষ্ট কোন বয়স সীমার প্রয়োজন নেই।গর্ভধারণের প্রথম মাস থেকেই মাদার হরলিক্স খাওয়া যায়।এ সময় একজন গর্ভবতী মহিলার প্রতিদিনের খাবার তালিকায় মাদার হরলিক্স রাখতে পারে এতে করে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মিটবে এবং গর্ভে থাকার শিশুর বুদ্ধির বিকাশ করতে সাহায্য করবে।

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য সম্পূরক পুষ্টি উপাদান হিসেবে কাজ করে কারণ দৈনন্দিন খাবারের পাশাপাশি মাদার হরলিক্স খেলে তার অতিরিক্ত পুষ্টি চাহিদাগুলো পূরণ হয়। মাদার হরলিক্স যে শুধুমাত্র গর্ভবতী মায়ের শরীরের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে এটি নয় তার গর্ভে থাকা সন্তানের শারীরিক বিকাশের ক্ষেত্রে এবং জন্মকালীন ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে থাকে। 

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স খাওয়ার নিয়ম

মাদার হরলিক্স গর্ভবতী মহিলাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখতে হবে।এতে করে তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান মেটানো সম্ভব হবে।এটি অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারের  তালিকায় রাখতে হবে।এটা একটা সম্পূরক খাদ্য হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে।মাদার হরলিক্স কোন প্রাকৃতিক খাবার নয়,এটি মূলত প্রস্তুত করা হয়েছে কৃত্রিমভাবে।এজন্য এটি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আগে জেনে তারপর খেতে হবে।গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স খাওয়ার যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি খাবারটি কিভাবে খেতে হবে সেই নিয়মটি ও জানতে হবে এবং সঠিক নিয়মে খেতে হবে।

তা না হলে মাদার হরলিক্স খাওয়ার পর গর্ভবতী মায়েদের কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।গর্ভবতী মায়েদের মাদার হরলিক্স খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে একজন ডাক্তার বলেন একজন গর্ভবতী মা দৈনন্দিন দুইবার মাদার হরলিক্স খেতে পারবেন।দুইবারের বেশি  খাওয়া উচিত নয় কারণ এর  আবার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে এজন্য গর্ভবতী মা সকালে নাস্তা করার পর এবং রাত্রে ঘুমানোর আগে মাদার হরলিক্স খেতে পারে।

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স  কখন খেতে হয়

প্রথম গর্ভাবস্থায় কোন মায়েরাই জানে না কিভাবে কখন মাদার হরলিক্স খেতে হয়। তবে মাদার হরলিক্স কখন খেতে হয় বা কখন খেতে হবে এ বিষয়ে অনেকেরই হয়তো জানা নেই ।বিশেষজ্ঞদের মতে একজন গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রে কোন বাধ্যতামূলক কোন নিয়ম নেই এ সময় তাকে যে মাদার হরলিক্স  খেতেই হবে । গর্ভবতী মা তার দৈনন্দিন খাবারের পাশাপাশি মাদার হরলিক্স খাবে তার প্রয়োজনীয় সময় অনুযায়ী। গর্ভাবস্থায় একজন গর্ভবতী মহিলাকে প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি এবং সুসম পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায়-মাদার-হুরলিক্স-কত-মাস -থেকে-খেতে-হয়


এতে করে গর্ভবতী মহিলা এবং তার গর্ভে থাকা সন্তান চাহিদা মোতাবেক পুষ্টি উপাদান পাবে।যখন গর্ভবতী মহিলা স্বাভাবিক খাবার খেতে পারে না তখন তার পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যায় আর এ পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটানোর জন্যই মাদার হরলিক্স খাওয়ার কথা বলা হয়ে থাকে।এজন্য একজন গর্ভবতী মহিলা তার দৈনন্দিন স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি মাদার হরলিক্স রাখতে পারেন একটি সাপ্লিমেন্ট খাবার হিসেবে।

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স কত মাস থেকে খেতে হয়

একজন গর্ভবতী মহিলার গর্ভাবস্থায় প্রতিদিনের তার খাবার তালিকার মধ্যে আয়রন ফলিক এসিড, হাই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার থাকা দরকার। এ সকল পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিনযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে মা এবং শিশু উভয়ে ভালো থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে। দৈনন্দিন খাবারের পাশাপাশি মাদার হরলিক্স রাখতে হবে এতে গর্ভবতী মায়ের অতিরিক্ত পুষ্টির চাহিদাগুলো পূরণ হয়ে যাবে।মাদার হরলিক্স খাওয়ার জন্য কোন নির্দিষ্ট সময় সীমা নেই ।

গর্ভবতী মায়েরা তার গর্ভাবস্থার প্রথম মাস থেকে শুরু করে বাচ্চা প্রসব করা পর্যন্ত মাদার হরলিক্স খেতে পারবেন যদি তার কোন সমস্যা না হয়।এটি সাপ্লিমেন্ট হিসেবে কাজ করে, এটি মূলত তৈরি করা হয়েছে গর্ভবতী মায়েদের জন্য।

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স খেলে কি হয়

বর্তমানে এখন অনেক গর্ভবতী মায়েরা আছে যারা গর্ভাবস্থায় শুরু থেকে মাদার হরলিক্স খেয়ে থাকেন এতে করে তারা তাদের চাহিদা মত পুষ্টির পরিমাণে মেটাতে পারে।আবার অনেকেই আছেন যারা মাদার হরলিক্স খায় না ।তবে কি তাদের বাচ্চা পৃথিবীতে স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয় না?আসলে গর্ভাবস্থায় যে একজন মাকে মাদার হরলিক্স খেতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নিয়ম বা কোন কথা নেই। মাদার হরলিক্স মূলত একটি সাপ্লিমেন্ট খাবার হিসেবে কাজ করে গর্ভবতী মায়েদের জন্য।

আরো পড়ুনঃ
 
ফলে তার পুষ্টির ঘাটতি দেখা যায়। এজন্য মাদার হরলিক্স খাওয়া যেতে পারে ফলে তার পর্যাপ্ত পুষ্টির ঘাটতি তা পূরণ হয়ে যাবে ।এটি মূলত একটি মল্টেড মিল্ক পাউডার।গর্ভবতী মাকে সর্বদা  ভিটামিন সমৃদ্ধ এবং শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে যাতে করে গর্ভবতী মায়ের পুষ্টির ঘাটতি না হয় এবং বাচ্চার ও শারীরিক বিকাশে কোন সমস্যা না ঘটে।বাচ্চার বুদ্ধির বিকাশ,শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ভালোভাবে হয় এবং হাড় শক্ত ও মজবুত হয়

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি  একজন গর্ভবতী মাকে গর্ভাবস্থায় থাকেন।
কারণ আমরা সকলেই জানি গর্ভবতী মায়ের শরীরে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টির দরকার হয়। এজন্য দৈনন্দিন খাবারের পাশাপাশি মাদার হরলিক্স খেতে ডাক্তারেরা পরামর্শ দেন। মাদার হরলিক্স খাওয়ার উপকারিতা গুলো হলঃ
  • গর্ভাবস্থায় পুষ্টি উপাদান বাড়ানো।
  • গর্ভাবস্থায় শারীরিক দুর্বলতা দূর করে।
  • শিশু হার মজবুত করে।
  • গর্ভবতীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে।
  • শিশুর ওজন বাড়াতে সহায়তা করে।
  • শিশুর শারীরিক ওমানসিক বিকাশ ঘটায়

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স খাওয়ার অপকারিতা

গর্ভাবস্থায় একজন গর্ভবতী মায়ের অবশ্যই সুষম ও পুষ্টিকর খাবার  খাওয়া উচিৎ।পাসাপাশি মাদার হরলিক্স খাওয়া যেতে পারে।তবে মাদার হারলিক্স খাওয়ার কিছু অপকারিতা রয়েছে।

গর্ভাবস্থায়-মাদার-হুরলিক্স-কত-মাস -থেকে-খেতে-হয়


  • বদ হজম হতে পারে।
  • প্রয়োজন এর তুলনাই বেশি খেলে রক্ত চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
  •  জালা পোড়া করতে পারে।
  • অনেকের গাস্ত্রিক এর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • কোষ্ঠ কাঠিন্যর  সমসসা হতে পারে।
  • স্নায়ু বিপর্যয় হতে পারে।

মাদার হরলিক্স বানানোর নিয়ম 

গর্ভাবস্থায় একজন গর্ভবতী মায়ের চাহিদা পূরণ করার জন্য মাদার হরলিক্স খাওয়ানো হয়। এজন্য একজন নারীর ক্ষেত্রে গর্ভকালীন সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।তার একটি ভুলের জন্য তার  সন্তানের ক্ষতি হতে পারে। সাধারণত মাদার হরলিক্স এর প্যাকেটের গায়ে বানানোর নিয়ম দেয়া থাকে তবে অনেকে বুঝতে পারে না।

এজন্য সহজে আমি বলে দেই বানানোর জন্য আপনারা প্রথমে একটা গ্লাস নেবেন।অনেকে আবার গরম পানির সাথে মিশিয়ে এটি বানানোর কথা বলে থাকেন তবে এর সর্বোচ্চ কার্যকারিতা পাওয়ার জন্য আপনার গরম দুধের সাথে এটি মিশিয়ে তৈরি করবেন। এক গ্লাস পরিমাণ গরম দুধের সাথে দুই থেকে তিন চামচ পরিমাণ মাদার হরলিক্স  নিবেন এবং এটি ভালোভাবে চামচ দিয়ে নাড়বেন।এভাবেই তৈরি হয়ে যাবে আপনার খাওয়ার জন্য উপযুক্ত। তারপর অবশ্যই এটা আপনি খেতে পারবেন।

মাদার হরলিক্স এর মূল্য তালিকা

বর্তমান বাংলাদেশ এর বাজারে প্রায় অনেক মুদি  দোকান ও ফার্মেসি তে  মাদার হরলিক্স পাওয়া যায়। আমাদের অনেকে মনে প্রশ্ন আসে মাদার হরলিক্স এর দাম কত ? মাদার হরলিক্স প্রতি ৩০০ গ্রাম এর দাম প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত হয় আর প্রতি ৫০০ গ্রাম এর দাম প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত হয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে যেসব পণ্যের দাম সব সময় একই রকম থাকে না দাম কোন সময় বাড়তে পারে। গর্ভবতী মায়ের জন্য মাদার হরলিক্স কেনার সময় অবশ্যই প্যাকেটের গায়ে মূল্য তালিকা এবং উত্তীর্ণ মেয়াদ দেখে মাদার হরলিক্স কিনতে হবে।

বাচ্চা প্রসবের পর কি মাদার হরলিক্স খাওয়া যাবে 

বাচ্চা প্রসবের পর মাদার হরলিক্স খাওয়া যাবে কিনা এটি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন কারণ মুখে মুখে প্রচলিত আছে মাদার হরলিক্স শুধুমাত্র গর্ভবতী মায়েদের জন্য তবে এ ধারণাটি একদমই ভুল বাচ্চা প্রসব করার পরও একজন গর্ভবতী মা তার শরীরে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি গুলো মেটানোর জন্য মাদার হরলিক্স খেতে পারেন।

মাদার হরলিক্স খেলে কি মায়ের বুকের দুধ বাড়ে

মাদার হরলিক্স খেলে কি বুকের দুধ বাড়ে এটা নিয়ে আলোচনা করি। মাদার হরলিক্স এ প্রচুর পরিমাণে  ভিটামিন থাকে যা বাচ্চা প্রসবকারি মায়ের শরীরে পুষ্টি প্রদান করে ফলে বাচ্চার মায়ের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।তাই বলা যায় মাদার হরলিক্স খেলে বাচ্চা দানকারী মায়েদের বুকের দুধের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায় ফলে বাচ্চার মায়ের বুকের দুধ বাড়লে উপাদান বাচ্চা পেয়ে থাকে।

মাদার হরলিক্স ও সাধারণ হরলিক্সের মধ্যে পার্থক্য

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স কত মাস থেকে খেতে হয় এটি নিয়ে আমরা অনেক আগ্রহী। মাদার হরলিক্স এবং সাধারণ হরলিক্স এর মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। মাদার হরলিক্স গর্ভবতী মা বা স্তন্যদায়ী মা খেতে পারবে অন্যদিকে সাধারণ হরলিক্স বাচ্চা,সাধারণ মানুষ,মহিলা পুরুষ সবাই খেতে পারে। মাদার হরলিক্স এ DHA বেশি পরিমাণে থাকে আর সাধারণ হরলিক্স এর ক্ষেত্রে DHA এর পরিমাণ সাধারণত কম থাকে. মাদার হরলিক্স এ আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকে আর সাধারণ হরলিক্স এর ক্ষেত্রে আয়রনের পরিমাণ কম থাকে।

আরো পড়ুনঃ

মাদার হরলিক্স এর ক্ষেত্রে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বিশেষ মাত্রায় যোগ করা থাকে আর সাধারণ হরলিক্স এর ক্ষেত্রে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর পরিমাণ সাধারণ মাত্রায় যোগ করা থাকে মাদার হরলিক্স খাওয়া হয় সাধারণত মা ও শিশুর গর্ভকালীন বিকাশ এর জন্য অন্যদিকে সাধারণ হরলিক্স খাওয়া হয় সাধারণ পুষ্টি উপাদান এর যোগানের জন্য।

বাচ্চার ব্রেন ডেভেলপমেন্টে মাদার হরলিক্স এর ভূমিকা

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স মায়ের পাশাপাশি বাচ্চার জন্য অনেক উপকারী। গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স বাচ্চার ব্রেন ডেভেলপমেন্টে ভূমিকা রাখে। মাদার হরলিক্স DHA,Omega-3,Choline এই উপাদান গুলো মস্তিষ্কে নিউরন তৈরি করে। গর্ভাবস্থায় বাচ্চার যখন চার মাস তখন থেকেই বাচ্চার ব্রেন খুব দ্রুত বাড়তে থাকে।
এজন্য বেবির ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে মাদার হরলিক্স ডিএইচএ খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া হাড়,দাঁত ও নার্ভাস সিস্টেম এর গঠনেও মাদার হরলিক্স সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং ম্যাগনেসিয়াম এই খনিজ উপাদান গুলো বেবির বোন, দাঁত এবং নার্ভাস সিস্টেম সৃষ্টি করে পাশাপাশি মায়ের আর কেউ রক্ষা করে থাকে।

গর্ভাবস্থায় পানি শূন্যতা রোধে মাদার হরলিক্স এর ভূমিকা

গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মা অনেক সময় পানি শূন্যতায় ভোগে। গর্ভাবস্থায় অনেক রকম সমস্যার দেখা দেয় কারণ এই সময় কোন খাবার সঠিকভাবে খেতে পারে না। গর্ভাবস্থায় পানি শূন্যতা রোধে মাদার হরলিক্স খেলে গর্ভবতী মায়ের শরীর হাইড্রেট থাকে। শরীর শক্তি পাই এবং শারীরিক দুর্বলতা গুলো কাটিয়ে উঠতে পারে। এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স খাওয়া উচিত। এতে মা যেমন উপকৃত হবে বাচ্চারও উপকার হবে।

মর্নিং সিকনেস কমাতে কি সাহায্য করে?

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স মর্নিং সিকনেস কমাতে সাহায্য করে। মাদার হরলিক্স এ থাকা ভিটামিন বি সিক্স বমি ভাব হলে তা কমায়। মাদার হরলিক্স খেলে শরীরে শক্তি পাওয়া যায় ফলে সকালে দুর্বলতা কমে যায় এবং বমি কিছুটা কম হয়। মাদার হরলিক্স যদি গরম পানি বা গরম দুধের সাথে খাওয়া যায় তাহলে সেটা পেটের জন্য অনেক আরামদায়ক হয়ে ওঠে এবং গ্যাট্রিকের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। মাদার হরলিক্স এর টেস্ট হালকা থাকায় পেটকে বেশি উত্তেজিত করে না এজন্য বমি ভাব কমে যায়। 

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি

ইসলাম নারীদেরকে অনেক সম্মান দিয়েছে।গর্ভবতী অবস্থায় ইসলাম নারীদেরকে আরও বেশি সম্মান শ্রদ্ধা যত্ন করতে বলেছেন। কারণ এ অবস্থায় শুধু একটি মা না মায়ের সাথে আরও একটি প্রাণ বেড়ে ওঠে। তাই মায়ের কষ্ট লাগবের জন্য সন্তানের বেড়ে ওঠার উদ্দেশ্যে যে খাবার গ্রহণ করা হয় সেটিও ইবাদতের অংশ বলে বিবেচিত হয়।

হালাল এবং পরিমিত খাবার খেতে হবে।বাচ্চার বেড়ে ওঠার জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া সুন্নাত যা খেলে মা এবং মায়ের পেটে থাকা শিশু উভয়েই সুস্থ থাকে।নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভবতী মায়ের জন্য পুষ্টিকর খাবার বলতে খেজুর, দুধ ও মধু উপকারিতা উল্লেখ করেছেন।এই খাদ্য উপাদান গুলো গর্ভবতী মায়ের জন্য অনেক উপকারী।

আরো পড়ুনঃ

এই উপাদান গুলো শুধু মায়ের জন্য নয় গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক,দেহ গঠন এবং উন্নত চরিত্র গঠনে ওপর প্রভাব ফেলে। এজন্য ইসলাম গর্ভবতী অবস্থায় গর্ভবতী মা এবং সন্তানের বিশেষ ভাবে যত্ন নিতে বলেছেন। ইসলাম সবসময়ই অপচয় এবং অতিরিক্ত খাবার খেতে নিষেধ করে।পুষ্টি হতে হবে পরিমিত এবং ভারসাম্যপূর্ণ যা শরীরের জন্য উপকারী।মায়ের সুস্থ থাকা উপর নির্ভর করে একটি পরিবারের সুস্থতার মূল ভিত্তি।এজন্য ইসলাম গর্ব অবস্থায় গর্ভবতী মায়ের উপর বিশেষভাবে পরিচর্যা করতে বলেছেন।

মাদার হরলিক্স এর বিকল্প হিসেবে ঘরে তৈরি পুষ্টি

গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের জন্য মাদার হরলিক্স একটি ভালো মানের পুষ্টিকর খাবারের উৎস হলেও ঘরে তৈরি অনেক প্রাকৃতিক খাবার আছে যেগুলো মাদার হরলিক্স এর চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টিকর এবং প্রাকৃতিক খাবার। ঘরে তৈরি করা বাদাম গর্ভবতী মায়ের জন্য, গর্ভকালীন শক্তি ক্যালসিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সরবরাহ করে থাকে।গর্ভবতী অবস্থায় যদি ওটস খাওয়া হয় যা শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি যোগায় এবং খাবার হজমে সহায়তা করে।ফলে মর্নিং সিকনেস আবার কমে যায়।

কিছু ফলমূল যেমন কলা,আপেল,খেজুর, পেপে বা আনারস দিয়ে বা ওটস বানিয়ে খেলে গর্ভবতী মায়ে শরীরে ভিটামিন, আইরন এবং প্রাকৃতিকভাবে সুগারের পরিমাণ যায় ফলে শারীরিক দুর্বলতা কমে যায়।গর্ভাবস্থায় কিছু উপকারী খাবার যেমনঃ খেজুর, দুধ খেলে শরীরে ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং প্রাকৃতিকভাবে এনার্জি তৈরি।করে যা বাচ্চার বেড়ে উঠাতে সাহায্য করে। ঘরে তৈরি কিছু মাল্টিগ্রেইন খাবার যেখানে ওটস, মুগ ডাল, চিনা বাদাম,তিল এগুলোকে একসঙ্গে গুঁড়ো করে খেলে গর্ভবতী মায়ের জন্য অনেক উপকারী এটা মাদার হরলিক্সের চেয়েও বহুগুণ উপকার করে থাকে।

খেজুর কিসমিস এবং বাদাম দিয়ে তৈরি কিছু এনার্জি পণ্য খাবার মায়ের জন্য অনেক স্বাস্থ্যকর। এভাবে ঘরে তৈরি করলে গর্ভবতী মায়ের জন্য সেই খাবার শুধু স্বাস্থ্যকরী নয় বরং সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্ত এবং প্রাকৃতিক খাবার। প্রাকৃতিক হওয়ায় গর্ভবতী মা এবং গর্ভস্থ বাচ্চার জন্য অনেক উপকারী।গর্ভাবস্থার খেতে সমস্যা হয় তাহলে মাদার হরলিক্স এর বিকল্প খাবার হিসেবে এসব ঘরোয়া পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স খাওয়ার জন্য ডাক্তারদের পরামর্শ

গর্ভবতী অবস্থায় মায়ের অতিরিক্ত পুষ্টির চাহিদা থাকে বলে অনেক স্ত্রী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গর্ভবতী মা এবং গর্ভস্থ বাচ্চার সুস্থতা এবং বিকাশের জন্য গর্ভবতী মাকে মাদার হরলিক্স খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ডাক্তাররা কিছু পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস সাধারণত মায়েদের প্রচুর দুর্বল থাকে এবং প্রচুর বমি হয়। এজন্য এ সময় একটু কম পরিমাণে মাদার হরলিক্স খেতে হবে। গর্ভাবস্থার ৪ থেকে ৯ মাস এর সময়টুকুতে গর্ভস্থ বাচ্চার ব্রেন, বোন এবং ইমিউন সিস্টেম তৈরি হয়।

এজন্য এ সময় মাদার হরলিক্স এ থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যেমনঃ ডি এইচ এ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন ডি থাকে যা শিশুর বিকাশে সাহায্য করে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, দুধে এলার্জি বা ওজন বাড়ার সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে মাদার হরলিক্স সাবধানে খেতে হবে বা সুগার ফ্রি মাদার হরলিক্স খাওয়া যেতে পারে। তবে ডাক্তাররা আরো একটি পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে মাদার হরলিক্স কখনো যেন প্রাকৃতিক খাবার বা বাড়ির খাবারের বিকল্প হিসেবে না হয়।

মাদার হরলিক্স শুধুমাত্র সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খাওয়া হয়।কিন্তু বাচ্চা ও বাচ্চার মায়ের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে অবশ্যই ফলমূল, সবুজ শাকসবজি, মাছ মাংস এবং বাড়ির খাবার খেতে হবে। মায়ের শরীর ও সুস্থ রাখতে প্রচুর পরিমাণ পানি খেতে হবে। এসব খাবার গুলো নিয়মিত খেলে মাদার হরলিক্স গর্ভস্থ মায়ের জন্য আরো ভালো কাজ করে।তবে মাদার হরলিক্স খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 

শেষ কথাঃগর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স কত মাস থেকে খেতে হয়

গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স কত মাস থেকে খেতে হয়?মাদার হরলিক্স খেলে মায়ের কি উপকার হয়? বাচ্চার কি উপকার হয় তা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি। গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স শুধুমাত্র সাপ্লিমেন্ট খাবার হিসেবে খাওয়া হয় এটি কোন বিকল্প খাবার নয়। মায়ের সুস্থতার জন্য অবশ্যই ঘরোয়া খাবার, ফলমূল, সবুজ শাকসবজি এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

আর্টিকেলটি যদি আপনারা মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে গর্ভাবস্থায় মাদার হরলিক্স খাওয়া সম্পর্কিত সকল তথ্য আপনারা পেয়ে যাবেন। আজকের আর্টিকেল টি পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং আপনারা এমন আরো তথ্য পেতে আর্টিকেল সুত্রার সাথে যুক্ত থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর্টিকেল সুত্রার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url