চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম-চন্দন ক্রিম ব্যবহারের উপকারিতা
চন্দন কাঠ নামটি আমরা কমবেশি সবাই শুনে থাকলেও চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম-চন্দন ক্রিম ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।রূপচর্চার জন্য ব্যবহৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
ত্বকের যত্নে আমরা চন্দন ক্রিম ব্যবহার করে থাকি কিন্তু সঠিক নিয়মে চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম জানিনা।আজকের আর্টিকেল এর মাধ্যমে চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম-চন্দন ক্রিম ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে জানব।
পোস্ট সূচীপত্রঃ চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম-চন্দন ক্রিম ব্যবহারের উপকারিতা
- চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম
- চন্দন ক্রিম ব্যবহারের উপকারিতা
- চন্দন ব্যবহার করে ফর্সা হওয়ার উপায়
- কোন ত্বকের জন্য চন্দন ক্রিম বেশি কার্যকরী
- ঘরোয়াভাবে চন্দন ক্রিম তৈরি করার উপায়
- ত্বকের উজ্জ্বলতায় চন্দন ক্রিমের ভূমিকা
- মুখের ব্রণ ও দাগ কমাতে চন্দন ক্রিমের ব্যবহার
- কতদিন চন্দন ক্রিম ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়
- চন্দন ক্রিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন
- শেষ কথাঃ চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম
চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়মz
চন্দন কাঠ এমন একটি উপাদান যা বহু প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চায় ব্যবহার হয়ে
আসছে।ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, কালচেভাব দূর করতে এবং মুখের ব্রণের সমস্যা দূর
করতে চন্দন খুবই উপকারী একটি উপাদান।চন্দন ক্রিম আমরা ব্যবহার করে থাকি কিন্তু
সঠিক ভাবে চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম আমাদের সকলের অজানা।আমরা জেনে নেই কিভাবে
ত্বকের যত্নে চন্দন ক্রিম ব্যবহার করা হয়।
- চন্দন ক্রিম ব্যবহার করার পূর্বে আপনি আপনার মুখ অবশ্যই খুব ভালোভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিবেন। মুখে যদি আপনার ময়লা বা তৈলাক্ত ভাব থাকে তাহলে আপনি গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন।
- আপনার মুখে যেসব মরা চামড়া থাকে সেগুলো সুন্দর মত স্ক্রাব করে নিবেন।মরা চামড়াগুলো আপনার ত্বক থেকে উঠে গেলে চন্দন ক্রিম ব্যবহার করার ফলে এর পুষ্টি উপাদান গুলো আপনার ত্বকে খুব ভালো একটা ফলাফল দিবে।
- চন্দন ক্রিম আপনি আপনার মুখে লাগানোর পূর্বে আপনার হাতে সামান্য পরিমাণ ক্রিম নিবেন এবং খুব আলতোভাবে আপনি আপনার মুখে এবং গলায় লাগাবেন।খুব বেশি চাপ দিয়ে মুখে মেসেজ করবেন না এটি আপনার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
- চন্দন ক্রিম মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর আপনি পানিতে ধুয়ে ফেলতে পারেন তবে যদি আপনি সেটা নাইট ক্রিম হিসেবে ব্যবহার করেন সে ক্ষেত্রে সারারাত রাখতে হবে।
- মুখ ধোয়ার সময় অবশ্যই আপনি ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুবেন।এতে আপনার ত্বক অনেক বেশি সতেজ দেখাবে এবং আপনার ত্বকের মধ্যে একটা টানটান ভাব থাকবে।
-
আপনার ত্বকের উপর নির্ভর করে আপনি চন্দন ক্রিম ব্যবহার করবেন।আপনার ত্বক যদি
শুষ্ক হয়ে থাকে তাহলে চন্দন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারকেল তেল বা মধু মিশিয়ে
নিবেন আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আপনি আপনার ক্রিমের সাথে গোলাপজল মিশিয়ে মুখে
ব্যবহার করবেন।
- চন্দন ক্রিম মুখে ব্যবহার করে ভালো একটা রেজাল্ট পেতে অবশ্যই প্রতিদিন একবার করে ব্যবহার করবেন।বিশেষ করে রাতের সময় ব্যবহার করবেন এতে এর কার্যকারিতা বেশি পাবেন আপনি।
-
আপনি চন্দন ক্রিম মুখে ব্যবহার করেছেন কিন্তু আপনার বাইরে বের হওয়া প্রয়োজন
সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মুখে সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিবেন এতে আপনার ত্বক সূর্যের
ক্ষতিকর রশি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
-
আপনি যদি ভালো ফলাফল পেতে চান তাহলে অবশ্যই চন্দন ক্রিম এর সাথে দুধ কিংবা
অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ব্যবহার করবেন।
চন্দন ক্রিম ব্যবহারের উপকারিতা
দিনের বেশিরভাগ সময় বাইরে কাটাই এক্ষেত্রে ধুলাবালি,রোদ,বাতাস এগুলো আমাদের
ত্বকে প্রভাব ফেলে এতে ব্রণ,ত্বক জ্বালাপোড়া যেন প্রতিদিনের রুটিন হয়ে
দাঁড়ায়।আমরা আমাদের ত্বক ভালো রাখার জন্য রূপচর্চার ক্ষেত্রে চন্দন ক্রিম
ব্যবহার করে থাকি কারণ রূপচর্চার চন্দন ক্রিমের উপকারিতা অনেক।এটি ত্বকের
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব শুষে নেয় এবং ত্বকের জন্য এটি এন্ড সেফটিক হিসেবে কাজ
করে।এজন্য আমরা ত্বকের সুরক্ষায় চন্দন ক্রিম ব্যবহার করে থাকি।ত্বকে চন্দন ক্রিম
ব্যবহার করলে ত্বক ঠান্ডা থাকে।
- ত্বকে যদি চন্দন গুড়া ব্যবহার করা যায় তাহলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
- ব্রণ এবং ত্বকের কাছে ভাব দূর করতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে।
- ত্বকের ক্লান্তি ভাব দূর করে এবং তত্ত্বের সতেজরাতে সাহায্য করে।
- ত্বকে যেসব ব্ল্যাকহেড হয় একটি থাকে সেগুলো খুব সহজে দূর হয়ে যায়।
- যাদের ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যায় চন্দন ব্যবহারের ফলে তোকে টানটান ভাব আসে।
- চন্দন যদি সঠিক নিয়মে ত্বকে ব্যবহার করা হয় তাহলে ত্বকের সৌন্দর্য অনেক গুণে বৃদ্ধি পায় এবং কোমল দেখা যায়।
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য চন্দন ক্রিম অনেক বেশি কার্যকরী কারণ এটি তৈলাক্ত ভাব কমিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
চন্দন ব্যবহার করে ফর্সা হওয়ার উপায়
চন্দন ক্রিম ছাড়াও চন্দন গুড়া ব্যবহার করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো যায়,
ফর্সা হওয়া যায়। চন্দন কাঠের গুড়া এবং অ্যালোভেরা জেলকে একসাথে মিশিয়ে পেস্ট
তৈরি করবেন এবং পেস্ট মুখে লাগিয়ে নিতে পারেন ।এটি ত্বককে উজ্জ্বল এবং ফর্সা
করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চন্দন গুঁড়ার মিশ্রণটি চাইলে আপনি আপনার গলা ও হাত
পায়েও ব্যবহার করতে পারেন এতে গলা,হাত-পা ফর্সা হবে। মিশ্রণটি ত্বকের ব্যবহার
করার বিশ মিনিট পর যখন ত্বকের সাথে শুকিয়ে যায় তখন ঠান্ডা পানি দিয়ে সুন্দর মত
মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
আরও পড়ুনঃ চন্দন সাবান ব্যবহারের নিয়ম
আবার কাঁচা হলুদ বাটার ও চন্দন গুড়া একসাথে মিশিয়ে এর সাথে
গোলাপজল দিয়ে মিশ্রণটি তৈরি করতে হবে। এই পেস্ট টি তোকে ব্যবহার করার ১৫-২০
মিনিট পর সুন্দর করে পানি দিয়ে ফেলতে হবে।সপ্তাহে যদি অন্তত যদি ২-৩ বার এই
মিশ্রণটি ত্বকে ব্যবহার করা যায় এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা অনেক বৃদ্ধি পাবে।মুলতানি
মাটি এক চামচের সাথে গোলাপজল এক চামচ চন্দন গুঁড়া এক চামচ এবং সাথে টমেটোর রস
মিশিয়ে একসাথে পেস্ট তৈরি করতে হবে। পেস্টি মুখে লাগানোর ২০ মিনিট পর হালকা
কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
কোন ত্বকের জন্য চন্দন ক্রিম বেশি কার্যকরী
চন্দনকে ব্যবহার করার সময়ই আমাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে আমার ত্বকের জন্য কি
চন্দন ক্রিম ব্যবহার কার্যকরী? চন্দন ক্রিম ব্যবহার করলে কি আমার ত্বকের কোন
ক্ষতি হবে? চন্দন ক্রিম অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আমাদের ত্বকের জন্য।তবে
কিছু ত্বক রয়েছে যেগুলোর ক্ষেত্রে চন্দন ক্রিম খুব বেশি কাজ করে।শুষ্ক
ত্বকের ক্ষেত্রে চন্দন ক্রিম খুব ভালো একটা রেজাল্ট দিয়ে থাকে।চন্দন ক্রিম
ব্যবহারের নিয়ম জানার পর এটা জানা উচিত চন্দন ক্রীম শুষ্ক ত্বকে কেন বেশি
কার্যকরী?
চন্দন ক্রিম যে আমাদের ত্বকের জন্য উপকারী এটা আমরা সবাই জানি কিন্তু
চন্দন ক্রিমের মধ্যে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে যা আমাদের ত্বককে হাইড্রেট
করে রাখতে সাহায্য করে।চন্দন ক্রিম ব্যবহারের ফলে আমাদের তো অনেক বেশি কমন হয়ে
যায়। তবে যাদের ত্বক অনেক বেশি তৈলাক্ত তাদের ক্ষেত্রেও চন্দন ক্রিম খুব ভালো
কাজ করে থাকে।
কারণ চন্দন ক্রিম অতিরিক্ত তৈলাক্ততা শোষণ করে নেই। এই ক্রিম ব্যবহারের ফলে মুখ
অনেক বেশি উজ্জ্বল দেখায়, মুখের ব্রণ কমে যায় এবং ত্বক সফট রাখে।সংবেদনশীল
ত্বকের ক্ষেত্রে চন্দন ক্রিম এর কার্যকর্তা সবচেয়ে বেশি কারণ এতে এনার্জি হবার
কোন সম্ভাবনা থাকে না যা আমাদের ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত রাখে এবং ত্বককে
শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
ঘরোয়াভাবে চন্দন ক্রিম তৈরি করার উপায়
ত্বক খুবই সংবেদনশীল। বারজাতকৃত কেমিক্যাল যুক্ত ক্রিম ব্যবহার না করে যদি
আমরা ঘরোয়া ভাবে চন্দন কাঠ দিয়ে ক্রিম তৈরি করি সেক্ষেত্রে এটি অনেকটা মানসম্মত
হবে এবং ত্বকেরও ক্ষতি হবার সম্ভাবনা অনেক কম।এতে আমাদের ত্বক আরও বেশি
স্বাস্থ্যজ্জল হয়ে উঠবে। চন্দন ক্রিম ঘরে তৈরি করার উপায় এখন আমরা জানবো।
- একটি পরিষ্কার বাটি নিতে হবে এবং সেখানে ২ চামচ পরিমাণ চন্দনের গুড়া এবং১ চামচ পরিমাণ কাঁচা দুধ নিয়ে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
- চন্দনের গুড়া টি এমন ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে যেন খুব সুন্দর একটা মসৃণ পেস্ট এর আকার ধারণ করে।
- এরপর এ মিশ্রণ করা পেস্ট এর সাথে এক চামচ পরিমাণ এলোভেরা জেল দিয়ে খুব ভালোভাবে মিশে নিতে হবে কারণ এলোভেরা জেল আমাদের ত্বকে মশ্চারাইজ করে এবং ত্বকে হাইড্রেট রাখতে অনেক সাহায্য করে।
- মিশ্রণকৃত পেস্টটির সাথে ৩-৪ ফোঁটা নারিকেলের তেল কিংবা বাদামের তেল মিশিয়ে নিতে হবে। যা আমাদের ত্বককে পুষ্টি যোগায় এবং মোলায়েম রাখতে সাহায্য করে।এক চামচ পরিমাণ গোলাপজল এর সাথে মেশাবেন।
- এরপর সবগুলো উপাদান কে মিশিয়ে ক্রিমের মতো করে রেডি করুন।আপনি আপনার প্রয়োজনমতো চন্দন গুড়া দিবেন যদি মনে হয় ক্রিম পাতলা হয়ে গেছে তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনি চন্দন গুড়া সংযুক্ত করে দিবেন।
- ক্রিম যখন তৈরি হয়ে যাবে তখন এটা কি আপনি একটা কাজের পাত্রে রাখতে পারেন।দীর্ঘদিন ব্যবহার করার জন্য আপনি এটাকে ফ্রিজের সংরক্ষণ করতে পারেন।কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ দিন মতো আপনি ফ্রিজে রেখে ক্রিমটি ব্যবহার করতে পারবেন।
- আপনার হোমমেড এই চন্দন গুড়ার ক্রিমটি প্রতিদিন আপনি ঘুমানোর পূর্বে আপনার মুখে লাগাবেন এবং ঘুম থেকে ওঠার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলবেন।আপনি যদি এই ঘরোয়া ক্রিমটি ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনার ত্বক এর উজ্জ্বলতা বাড়বে এবং বিভিন্ন প্রকার ব্রণের সমস্যা দাগ দূর হবে।
ত্বকের উজ্জ্বলতায় চন্দন ক্রিমের ভূমিকা
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে চন্দন ক্রিম খুবই ভালো কাজ করে থাকে।চন্দন ক্রিমের
মধ্যে যেসব অ্যান্টি এক্সিডেন্ট থাকে এটা ত্বকের অত্যন্ত গভীর পর্যন্ত গিয়ে
কাজ করে এবং মেলানিন তৈরির পরিমাণ কমায়।মেলানিনেরপরিমাণ কমে যায় বলে চন্দন
ক্রিম ব্যবহারের ফলে আস্তে আস্তে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং ত্বক অনেক গ্লো করে।আমরা
বাইরে থাকি এতে ত্বক রোদ্দুরের আলোয় কালো হয়ে যায়।এই কালচে ভাব কমাতে যদি
হালকা করে চন্দন ক্রিম ব্যবহার করা হয় কালচে ভাবটা কেটে যাই।
আরো পড়ুনঃ উজ্জ্বল ত্বক পেতে চন্দনের ৮ টি ফেসপ্যাক
নিয়মিতভাবে চন্দন ক্রিম ব্যবহারের ফলে ত্বকের টোন সমান থাকে এবং
পিগমেন্টেশন গুলো দূর হয়ে যায়। এছাড়া ত্বকের জমে থাকা ময়লা এবং ত্বকে যে সব
মৃত কোষ থাকে ক্রিম ব্যবহারের ফলে এই মৃত কোষগুলো ত্বকের উপর থেকে উঠে যায় এবং
উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।চন্দন ক্রিম ব্যবহারের ফলে ত্বকের মধ্যে একটা ন্যাচারাল
ভাব আসে।চন্দন ব্যবহারের ফলে ত্বক অনেক স্নিগ্ধ দেখায় ফলে খুব কম সময়ের
মধ্যেই ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
মুখের ব্রণ ও দাগ কমাতে চন্দন ক্রিমের ব্যবহার
চন্দনের মধ্যে কিছু উপাদান যেমন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং আন্টি ইনফ্লেমেটরি
বৈশিষ্ট্য থাকে মধ্যে যেসব ব্রণ থাকে তা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। এছাড়া চন্দন
ক্রিম ব্যবহারের ফলে ত্বকের ফলা ভাব কমে যায।ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত তার পরিমাণ
নিয়ন্ত্রণ আসে বলে ব্রণের পরিমাণও কমে জায়।ত্বকে যদি কোন ব্যাস বা ফুসকুড়ি দেখা
যায় সেখানে যদি চন্দন ক্রিম লাগানো যায় তাহলে খুব দ্রুত জ্বালাপোড়া এবং
চুলকানি কমে যায়।
চন্দন ক্রিম নিয়মিতভাবে ব্যবহারের ফলে ব্রণের যেসব দাগ থাকে তা মিশিয়ে
যায় এবং ত্বকের ছিদ্র গুলো খুব ছোট ছোট দেখা যায়। বাজারের বিভিন্ন
কেমিক্যালযুক্ত ক্রিমের তুলনায় চন্দন ক্রিম অনেক বেশি উপকারী। অনেকেই আছে
যারা ব্রণের সমস্যা দূর করতে চন্দন ক্রিম ব্যবহার করে থাকে।
কতদিন চন্দন ক্রিম ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়
চন্দন ক্রিম আমরা ব্যবহার করে থাকি ত্বকে ভালো রাখার জন্য।তবে কতদিন চন্দন ক্রি ম
ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে তার সম্পূর্ণ নির্ভর করে ত্বকের ধরন,ত্বকের
কি ধরনের সমস্যা এবং নিয়মিত ব্যবহারের উপর।ত্বকেরদাগ,কালচে ভাব,রোদে পোড়া কমাতে
চাইলে নিয়মিত ভাবে দিনে দুইবার সকালে এবং রাতে ব্যবহার করতে হবে। দুই থেকে চার
সপ্তাহের মধ্যে আস্তে আস্তে এর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।যাদের ত্বকে ব্রণ আছে
নিয়মিত যদি তারা চন্দন ক্রিম ব্যবহার করে থাকে তাহলে ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই ব্রণ
ভাব কমে যাবে এবং ত্বকের উন্নতি হবে।
আরো পড়ুনঃথানাকা চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং মোলায়েম ত্বকের জন্য প্রতিদিন রাতের বেলায়
ঘুমানোর আগে নিয়মিত এক মাস ব্যবহার করলে একদম কোমল এবং উজ্জ্বল ত্বক হবে।তবে
ভালো ফলাফল পেতে হলে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে এবং পরিমাণ মতো ব্যবহার করতে হবে
বেশি ব্যবহার করলে যে ভালো উপকার পাওয়া যাবে এটা ভুল ধারণা।তাছাড়া কখনো যদি
দিনের বেলায় চন্দন ক্রিম মুখে লাগানো হয় তাহলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার
করতে হবে। সানস্ক্রিন যদি মুখে লাগানো না হয় রোদের আলোয় তাকে কাল যে ভাব চলে
আসবে।
চন্দন ক্রিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন
চন্দন ক্রিম যেমন আমাদের ত্বকের জন্য অনেক বেশি উপকারী তবে বিশেষ ক্ষেত্রে আবার
এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এজন্য চন্দন ক্রিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই
সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ ভুল ভাবে চন্দন ব্যবহার করলে দেখা যাচ্ছে ত্বকের
ক্ষতি হয়ে যাবে বা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখাতে পারে ত্বকে। চন্দন ক্রিম
ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত সেগুলো নিয়ে নিচে
আলোচনা করা হলো।
- চন্দন ক্রিম প্রথমবার ব্যবহারের পূর্বে তকে আগে একটু লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিতে হবে।কারণ সবার ত্বক একই নয় অনেক সময় অ্যালার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- বেশি উজ্জ্বলতা হবে এই আশায় অতিরিক্ত পরিমাণ চন্দন ক্রিম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দিনে যদি ২-৩ বারের বেশি চন্দন ক্রিম ব্যবহার করা হয় এক্ষেত্রে ত্বকের আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়।
- যাদের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল তারা মুখে চন্দন ক্রিম ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই ভালো মতো পরীক্ষা করে তারপর মুখে লাগাবেন।নতুবা মুখে লাগানোর পর জ্বালাপোড়া করতে পারে।
- বর্তমানে বাজারে কম দামে অনেক চন্দন ক্রিম পাওয়া যায় যেগুলো অনেক কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি। এসব কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে কেননা এসব কেমিক্যাল আমাদের ত্বকের অনেক ক্ষতি করে থাকে।
- শরীরে যেগুলো সংবেদনশীল অংশ সেখানে চন্দন ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না আবার শরীরে যদি কোন জায়গায় কাটা বা ক্ষতস্থান থাকে সেক্ষেত্রে ক্ষতস্থানগুলোতে চন্দন ক্রিম এর ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।
- গর্ভবতী মা বা ছোট বাচ্চারা যদি চন্দন ক্রিম ব্যবহার করতে চায় তাহলে অবশ্যই ব্যবহার করার পূর্বে ডাক্তারদের পরামর্শ নিতে হবে।
শেষ কথাঃ চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম
চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম-চন্দন ক্রিম ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা
জানলাম। চন্দন ক্রিম আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ব্রণের সমস্যা এবং
ত্বকের কাজ দূর করার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ব্যবহারের ফলে ত্বকে
একটা ন্যাচারাল ভাব আসে।চন্দন ক্রিমব্যবহারের ফলে ত্বকের কোষ গুলো ভিতর থেকে
সতেজ দেখায় এজন্য ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক অনেক কোমল হয়ে যায়।
চন্দন ক্রিম ব্যবহারের উপকারিতা সবচেয়ে বেশি তবে সামান্য ক্ষেত্রে এর
প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এজন্য সম্যঞ্জস্যতা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং
নির্দিষ্ট নিয়মে নিয়মিতভাবে তাকে ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের জন্য খুব ভালো
একটা ফলাফল পাওয়া যাবে। রূপচর্চা বিষয়ক আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের কেমন
লাগলো অবশ্যই জানাবেন এবং এ ধরনের আরো টিপস পেতে আপনারা
"আর্টিকেল সুত্রার" ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।



আর্টিকেল সুত্রার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url