ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম-তালিকা সহ রাজধানী
ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম জানতে হলে আগে ইউরোপ মহাদেশ সম্পর্কে জানতে হবে।ইউরোপ
হলো পৃথিবীর অন্যতম বৈচিত্র্যময়, শিক্ষা এবং অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ মহাদেশ গুলোর
মধ্যে একটি।ইউরোপ মহাদেশ মোটামুটি ৫০ টির বেশি দেশ
নিয়ে গঠিত।আজকের আর্টিকেলে আমি ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম নিয়ে আলোচনা
করব।
ইউরোপের ৫০ টি দেশের মধ্যে ২৬ টি দেশ স্বাধীন সার্বভৌম।ইউরোপের দেশগুলো সাধারণত
দুই ভাগে বিভক্ত হয়।১.সেনজেন ভুক্ত দেশ ২.নন সেনজেনভুক্ত দেশ।তবে
সেনজেনভুক্ত দেশের সাথে আরও একটি দেশ যুক্ত হয়েছে।
পোস্ট সূচিপত্রঃইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম-তালিকা সহ রাজধানী ও মুদ্রার নাম
- ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম
- সেনজেন দেশ কি
- ইউরোপের সেনজেন ভুক্ত দেশগুলোর তালিকা
- নন সেনজেন যুক্ত দেশ গুলোর তালিকা
- ইউরোপ মহাদেশের ধনী দেশগুলোর তালিকা
- ইউরোপ মহাদেশে ভিসার প্রয়োজনীয়তা
- ইউরোপ মহাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতা
- ইউরোপ মহাদেশের উন্নত জীবনযাত্রার প্রভাব
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ইউরোপের স্থাপনা ও নগর সমূহ
- শেষ কথাঃ
ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম জানার আগে আমরা সর্বপ্রথম ইউরোপ মহাদেশ সম্পর্কে জানব।
ইউরোপ হলো পৃথিবীর বৈচিত্রপূর্ণ মহাদেশ গুলোর মধ্যে একটি।যা শিক্ষার সংস্কৃতি
অর্থনীতিতে প্রচুর সমৃদ্ধ শালী একটি দেশ। এই মহাদেশ হলো সভ্যতার এক অনন্য
নিদর্শন।ইউরোপ মহাদেশ বিশাল বিশাল রাজ্য এবং অনেকগুলো ছোট ছোট দেশ এর সমন্বয়ে
গঠিত।ইউরোপের দেশগুলো সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত।সেনজেনভুক্ত দেশ ও নন সেনজেন ভুক্ত
দেশ।
তবে একটা মজার বিষয় সেনজেনভুক্ত দেশগুলোর একটা ভিসা থাকলে কোন
বাধা-বিপত্তি ছাড়াই অন্যান্য দেশগুলোতে ভ্রমন করা সম্ভব।এটি
খুবই সাশ্রয়ী এবং সুবিধাজনক কারণ একটা ভিসা দেই সবগুলো দেশ ভ্রমন
করা যাই।২০২২ সাল পর্যন্ত সেনজেনভুক্ত দেশের তালিকায় মোট ২৬ টি দেশ
ছিল।কিন্তু ২০২৩ সালে জানুয়ারি মাসে নতুনভাবে ক্রোয়েশিয়া সেনজেন দেশের
তালিকায় যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপের মোট সেনজেনযুক্ত দেশ ২৭ টি।
আরো পড়ুনঃসেনজেন ২০২৫ দেশের তালিকা
সবচেয়ে সুবিধার জনক বিষয় হলো এই একটি ভিসা দিয়েই ২৭টি যে ভ্রমণ করা যাবে খুব
সহজে।ইউরোপ মহাদেশের যে ২৭ টি দেশ সেনজেন ভুক্ত সেগুলো সব ইউরোপীয় ইউনিয়নের
সদস্য। যারা ইউরোপ এর যে কোন দেশে ভ্রমণ করতে চাই বা পড়াশোনা করতে চাই বা কাজের
জন্য যেতে চাই তারা ইউরোপের দেশগুলো সম্পর্কে জানতে বেশ আগ্রহী।এজন্য ইউরোপে ২৬
টি দেশের নাম-তালিকা সহ রাজধানী ও মুদ্রার নাম আলোচনা করা হলো।
| দেশের নাম | রাজধানীর নাম | মুদ্রার নাম |
|---|---|---|
| ফ্রান্স | প্যারিস | ইউরো |
| জার্মানি | বার্লিন | ইউরো |
| ইতালি | রোম | ইউরো |
| স্পেন | মাদ্রিদ | ইউরো |
| যুক্তরাজ্য | লন্ডন | ব্রিটিশ পাউন্ড স্টারলিং |
| নেদারল্যান্ডস | আমস্টারডাম | ইউরো |
| বেলজিয়াম | ব্রাসেলস | ইউরো |
| গ্রিস | এথেন্স | ইউরো |
| পর্তুগাল | লিসবন | ইউরো |
| অস্ট্রিয়া | ভিয়েনা | ইউরো |
| সুইডেন | স্টক হোম | সুইডিশ ক্রনা |
| ডেনমার্ক | কোপেন হেগেন | ড্যানিশ ক্রন |
| নরওয়ে | অসলো | নরওয়েজিয়ান ক্রোন |
| ফিনল্যান্ড | হেলেসিঙ্কি | ইউরো |
| পোল্যান্ড | ওয়ারসা | পোলিশ জলোটি |
| হাঙ্গেরি | বুদাপেস্ট | ফরিন্ট |
| চেক প্রজাতন্ত্র | প্রাগ | চেক করুনা |
| সুইজারল্যান্ড | বার্ন | সুইস ফ্রাঙ্ক |
| আয়ারল্যান্ড | ডাবলিন | ইউরো |
| আইসল্যান্ড | রেইকজাভীক | আইসল্যান্ডিক্রনা |
| এস্তেনিয়া | তালিন | ইউরো |
| বুলগেরিয়া | সোফিয়া | বুলগেরিয়ান লেভ |
| রোমানিয়া | বুখারেস্ট | রোমানিয়ান লেও |
| সার্বিয়া | বেলগ্রেড | সার্বিয়ান দিনার |
| স্লোভাকিয়া | ত্রাতিসাভা | ইউরো |
| স্লভেনিয়া | লিউব্লিয়ান | ইউরো |
| ক্রোয়েশিয়া | জাগ্রেব | ইউরো |
সেনজেন দেশ কি
সেনজেন দেশ বলতে সেনজেন অঞ্চল কে বুঝাই।যার মধ্যে ইউরোপ মহাদেশের ২৭ টি
দেশ রয়েছে। ইউরোপ মহাদেশের এ দেশগুলো নিজেদের মধ্যকার সীমা রক্ষী বর্ডার তুলে
নিয়ে যাতায়াতের জন্য যে সীমাবদ্ধতা ছিল তা দূর করেছে।কোন নিয়ম কানুন ছাড়াই
সেনজেন অন্তর্ভুক্ত যে দেশগুলো সেখানে নিশ্চিন্তে ভ্রমন করা যাবে। তবে ভিসার
ওপর নির্ভর করে আপনাকে কোন দেশে ভ্রমণ করলে থাকার অনুমতি দিবে। সেনজেন অঞ্চলের
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছেঃ
- ইউরোপ মহাদেশের দেশগুলো ভ্রমণ কে খুব সহজ করে দেই।
- সময়, খরচ এবং ঝামেলা সবকিছুই অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
- একবার ভ্রমণ করলে একাধিক দেশ ঘুরে বেড়ানো যায়।
- আন্তর্জাতিক ভাবে ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে সেনজেন এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক বেশি শক্তিশালি।
ইউরোপের সেনজেন ভুক্ত দেশগুলোর তালিকা
আমাদের পৃথিবীতে মোট মহাদেশ এর সংখ্যা মোট সাতটি।এই সাতটি মহাদেশের
মধ্যে ইউরোপ ভূখণ্ড বৃহৎ এবং ইউরোপ মহাদেশ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি
ভূখণ্ড।আমাদের সবার মনের অনেক বড় একটা স্বপ্ন থাকে যে ইউরোপদেশ ঘুরতে যাব।অনেকে
আবার ইউরোপে পড়াশোনা করতে যেতে চাই।আবার অনেকে আছেন যারা একদম স্থায়ীভাবে
ইউরোপে বসবাস করতে চাই।
উদ্দেশ্য যেটাই হোক সর্বপ্রথম আগে ইউরোপ দেশগুলো সম্পর্কে জানতে হবে।আমরা
উপরে ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম-তালিকা সহ রাজধানী ও মুদ্রার নাম জানলাম।ইউরোপ
মহাদেশ সম্পর্কে আরো একটু বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকে ইউরোপ মহাদেশের মানচিত্র
সম্পর্কে জানতে হবে এবং বুঝতে হবে।
আরো পড়ুনঃনন সেনজেন ভুক্ত দেশ ২০২৪
ইউরোপ মহাদেশ এর গল্প শুনলে মনে হবে যেন ইউরোপের প্রতিটি রাস্তাঘাট প্রতিটি মানুষ
যেন এক একটা ইতিহাসের স্মৃতি বহন করে।মানচিত্রের দিকে আমরা তাকালে দেখতে পাই
ইউরোপ মহাদেশের উত্তর দিকে রয়েছে আর্কটিক মহাসাগর, পূর্ব দিকে রয়েছে
এশিয়া মহাদেশ,দক্ষিণ দিকে ভূমধ্যসাগর এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে আটলান্টিক
মহাসাগর।ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম যেগুলো সেনজন ভুক্ত নিচে দেওয়া হল।
- অস্ট্রিয়া
- বেলজিয়াম
- চেক প্রজাতন্ত্র
- ডেনমার্ক
- এস্তেনিয়া
- ফিনল্যান্ড
- ফ্রান্স
- জার্মানি
- গ্রীস
- হাঙ্গেরি
- আইসল্যান্ড
- ইতালি
- লাটভিয়া
- লিচেন স্টাইল
- লিথুনিয়া
- লুক্সেমবার
- মালটা
- নেদারল্যান্ডলান
- পোল্যান্ড
- স্লভাকিয়া
- স্পেন
- সুইডেন
- সুইজারল্যান্ড
- স্লাভেনিয়া
নন সেনজেন যুক্ত দেশ গুলোর তালিকা
ইউরোপের সেনজেনভুক্ত দেশগুলোর অনেক বড় একটা সুবিধা হচ্ছে একবার ভিসা করলেই
যথেষ্ট। একবার ভিসা করলেই ২৭ টি দেশ খুব সহজে ভ্রমণ করা যায়।তবে নন
সেনজেন ভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় একটা অসুবিধা হলো আলাদা আলাদা
দেশের জন্য আলাদা আলাদা ভিসার প্রয়োজন পড়ে।এই জন্য নন সেনজেন ভুক্ত দেশগুলোর
ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে অনেক মানুষ আছেন
যারা ইউরোপের দেশগুলোতে ভ্রমণ করতে চাই।
অনেকে আছে যারা উচ্চ শিক্ষার জন্য সেখানে যেতে চাই।সেনজেনভুক্ত দেশগুলোর
ক্ষেত্রে তারা সুবিধা পেলেও নন সেনজেনভুক্ত দেশের ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন
হতে হয় কারণ এক্ষেত্রে তারা এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমন করতে পারে না।এজন্য
দেখা যায় যে সেনজেনভুক্ত দেশের তুলনায় নন সেনজেন ভুক্ত দেশগুলোতে ভিসা পাওয়া
অনেক বেশি কঠিন।নিচে নন সেনজেন ভুক্ত দেশগুলোর তালিকা দেওয়া হলোঃ
- আলবেনিয়া
- মলদোভা
- আজারবাইজান
- বেলারস
- বসনিয়া
- ইউক্রেন
- জর্জিয়া
- সার্বিয়া
- আর্মেনিয়া
- মন্টি নিগ্রো
- মেসিডোনিয়া
- রাশিয়া
- তুরস্ক
- যুক্তরাজ্য
- কসভো
ইউরোপ মহাদেশের ধনী দেশগুলোর তালিকা
ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম যেগুলো আমরা জানলাম মানে সেটি ইউরোপ মহাদেশ।ইউরোপ
মহাদেশে যতগুলো ধনী দেশ আছে সে দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই সমৃদ্ধশালী।সুতরাং
এ কথা বলা যায় যে তারা অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নতির
শীর্ষস্থানে রয়েছে।ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম যেগুলো জীবনযাত্রার মানকে অনেক
বেশি উন্নতি করেছে।
সামগ্রিক দিক থেকে যদি বিবেচনা করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও এই ২৬ টি
দেশ অনেক বেশি বিখ্যাত।ইউরোপ মহাদেশের এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই
সচ্ছল যা সফলতা এবং উন্নত জীবন যাপনের দিকে এ দেশগুলোকে অনেক বেশি আকৃষ্ট
করে।ইউরোপের ধনী দেশগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলঃ
- মোনাকো
- লুক্সেমবার্গ
- নরওয়ে
- সুইজারল্যান্ড
- আয়ারল্যান্ড
- আইসল্যান্ড
- ডেনমার্ক
- নেদারল্যান্ড
- সুইডেন
- জার্মানি
উপরোক্ত দেশগুলো ইউরোপ মহাদেশের সবচেয়ে ধনী দেশ।অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং
সর্বোপরি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবগুলো দিক দিয়ে ইউরোপ মহাদেশ অনেক বেশি
এগিয়ে।আপনি সেনজেন ভিসা দিয়ে ইউরোপের এই দেশগুলো ভ্রমণ করতে পারবেন।এজন্য ভ্রমণ
করার আগে আমাদের জেনে নেয়া
উচিত দেশগুলো সম্পর্কে।তাহলে আপনি যে যে উদ্দেশ্যে ইউরোপের সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে
ভ্রমণ করবেন সে ক্ষেত্রে আপনি এ দেশগুলোকে মনের মত করে উপভোগ করতে পারবেন।
ইউরোপ মহাদেশে ভিসার প্রয়োজনীয়তা
ইউরোপ মহাদেশে ভ্রমণ পড়াশোনা,চাকরি,চিকিৎসা বা স্থায়ীভাবে বসবাস যে উদ্দেশ্যের
জন্য যাওয়া হোক না কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজ সেটা হল ভিসা।ইউরোপের
বেশিরভাগ দেশগুলোই সেনজেনভুক্ত দেশের আওতায়।এ দেশগুলোতে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই
ভিসা বাধ্যতামূলক। সেনজেনভুক্ত দেশের ভিসা থাকলে একবারে ২৬ টি দেশ ভ্রমণ
করা যাবে
আরো পড়ুনঃনন সেনজেন দেশের সুবিধা কি
এজন্য ইউরোপ মহাদেশের সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে যাওয়ার পূর্বে সেনজেনভুক্ত
ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম এগুলো সম্পর্কে ভালোমতো আগে জেনে নিতে
হবে।ভিসা আবেদন করার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।ইউরোপের ভিসা নেয়ার
আরেকটি প্রয়োজনীয় দিক হল আইনগত সুরক্ষা।
এক্ষেত্রে আপনার যদি ভিসা থাকে তাহলে আপনি আইন অনুযায়ী বৈধ নিয়মে দেশে ভ্রমণ
করছেন।ভিসা থাকলে টিকিট বুকিং করা,হোটেল রিজার্ভ এবং ট্রাভেল ইন্সুরেন্স এর
ক্ষেত্রে কোন ঝামেলা সৃষ্টি হয় না অনেক দেশে ট্রানজিট করতে গেলেও ভিসার
প্রয়োজন পড়ে।সর্বোপরি বলা যায় ভিসা সার্বিক নিরাপত্তা, আইনগত বৈধতা এবং ভ্রমণ
সুবিধায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোপ মহাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতা
ইউরোপ মহাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতায় পরিপূর্ণ।ইউরোপ মহাদেশ হলো পৃথিবীর
এমন একটি মহাদেশ যেখানে প্রত্যেকটি দেশের রয়েছে আলাদা আলাদা সংস্কৃতি,
আলাদা খাদ্যাভাস এবং আলাদা জীবন পরিচালনা করার নিয়ম নীতি।প্রতিটি দেশে
আলাদা আলাদা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতা পরিলক্ষিত হয়।ইউরোপে প্রায়ই ২০০ এর অধিক
ভাষা প্রচলিত রয়েছে।
ইউরোপের সাংস্কৃতিক উৎসব, নাটক,শিল্প, সাহিত্য,লোকজ
শিল্প বৈচিত্র্যতায় ভরপুর।সবমিলিয়ে বলা যায় ইউরোপ শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক
বৈচিত্র্যতায় পরিপূর্ণ নয় বরং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের
অন্যতম।
ইউরোপ মহাদেশের উন্নত জীবনযাত্রার প্রভাব
ইউরোপ মহাদেশের জীবনযাত্রার মান অনেক বেশি উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী।শিক্ষা ব্যবস্থা,
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, পরিবহন, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান সকল ক্ষেত্রে
অন্যান্য দেশের তুলনায় উন্নতির চরম পর্যায়ে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো।ইউরোপের
জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব হচ্ছে প্রযুক্তির উন্নয়ন।প্রযুক্তিগত দিক থেকে তারা অনেক বেশি সমৃদ্ধশালী।আধুনিক গবেষণা,
রোবোটিক সিস্টেম,এ আই এবং পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি গুলোর
ক্ষেত্রে ইউরোপ মহাদেশের অগ্রযাত্রার মান অনেক বেশি উন্নত।
প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবন অনেক বেশি সহজ এবং
দ্রুতগামী।অনলাইন সেবা, স্মার্ট সিটি,স্বয়ংক্রিয় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট
ইউরোপের দৈনন্দিন জীবনকে আরো বেশি সহজ করে তুলেছে।তাদের উন্নত জীবন ব্যবস্থা এবং
প্রযুক্তির প্রভাব দেখে অনেকেই ইউরোপকে আধুনিক সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে মনে
করেন।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ইউরোপের স্থাপনা ও নগর সমূহ
ইউরোপ হলো ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধশালী এমন একটি মহাদেশ যা বহু প্রাচীন
সভ্যতার সাক্ষী হিসেবে আজও বিশ্বের কাছে পরিচিত।রোমান সাম্রাজ্য,গ্রিক
সভ্যতার প্রতিটি চিহ্ন এখন পর্যন্ত ইউরোপে বিদ্যমান রয়েছে।রোমের
কলোসিয়াম,প্যারিসের নাটোর ডেম,লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজ স্থাপনা গুলো ইউরোপের
ইতিহাস উন্মোচিত করে।
ইউরোপের প্রতিটি শহরে রয়েছে মিউজিয়াম, চার্চ, ক্যাসেল এবং পুরনো সব স্থাপনা।এসব
স্থাপনা শুধুমাত্র ইউরোপের ইতিহাস বহন করে না ইউরোপ মহাদেশের পর্যটনে অনেক বেশি
ভূমিকা রাখে এসব পুরোনো স্থাপনা।ইউরোপের স্থাপনা গুলো অনেক বেশি মনোমুগ্ধকর এবং
আকর্ষণীয়।এসব পুরোনো স্থাপনার জন্য ইউরোপকে বলা হয় ইতিহাসের জীবন্ত
পাঠশালা।
শেষ কথাঃ
ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম আলোচনা করে শুধুমাত্র আমরা ইউরোপে ২৬ টি দেশের নামই নয়
রাজধানী,মুদ্রার নাম ও জানতে পারলাম। এছাড়া ইউরোপের সেনজেনভুক্ত দেশ ও নন
সেনজেন ভুক্ত দেশ গুলো সম্পর্কে জানতে পারলাম। ইউরোপের
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতা, ইউরোপ ভিসার প্রয়োজনীয়তা
বিস্তারিত জানলাম।ইউরোপ মহাদেশ শিল্প-সংস্কৃতি সবকিছুতে বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং অপরূপ
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ।
আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি
পাশাপাশি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং ইউরোপ মহাদেশের দেশগুলো বৈচিত্র্যতা সম্পর্কে
জানিয়েছি। আশা করি আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা আপনাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে
যাবেন।আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই জানাবেন এবং এমন আরও তথ্য
পেতে আর্টিকেল সূত্রার ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।


আর্টিকেল সুত্রার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url